মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত রায়ে জানিয়েছে, চীনের নেতা মাও সেতুংয়ের সাবেক সচিব লি রুইয়ের ডায়েরিগুলো স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েই রাখা যাবে।
লি রুই ছিলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি জীবনের শেষদিকে দলটির সমালোচনার জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৩৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ লিখে গেছেন।
লি রুই জীবিত থাকতেই তার মেয়ে এসব ডায়েরি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দান করতে শুরু করেন। তবে তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এসব নথি বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মামলা করেন।
স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষ আদালতে দাবি করে, এই নথিগুলো চীনে ফেরত পাঠানো হলে সেগুলো সেন্সর বা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তারা আরও জানায়, লি রুই নিজেই চেয়েছিলেন তার লেখাগুলো সংরক্ষিত থাকুক এবং গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
আদালত রায়ে বলেছে, ডায়েরিগুলো দানের প্রক্রিয়া আইনসম্মত ছিল এবং এটি লি রুইয়ের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই ডায়েরিগুলোতে চীনের আধুনিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিয়ানানমেন স্কয়ারের ঘটনাবলীর প্রত্যক্ষ বর্ণনা, যা চীনে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত।
লি রুইয়ের লেখায় বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলি চালানো, সাঁজোয়া যান দিয়ে ব্যারিকেড ভেঙে ফেলা এবং বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার বিবরণ উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে চীনের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিশ্বব্যাপী গবেষণার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মামলার সময় স্ট্যানফোর্ডের আইনজীবীরা বলেন, লি রুই আশঙ্কা করেছিলেন যে তার লেখা চীনে নিরাপদ থাকবে না, তাই তিনি এগুলো বিদেশে সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন।
এদিকে মামলার বাদী লি রুইয়ের স্ত্রী বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই মারা গেছেন।
















