নিউ মেক্সিকোর চিহুয়াহু মরুভূমির নিচে প্রায় ৪৮৯ মিটার গভীরে অবস্থিত লেচুগুইলা গুহা। এই গুহা ২৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সম্পূর্ণ অন্ধকার। এখানে প্রাণীরা প্রায় সর্বদা অভুক্ত অবস্থায় বেঁচে থাকতে বাধ্য।
গুহায় হাজার হাজার বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা জীবাণুগুলো একে অপরকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বেঁচে থাকে। তারা বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে—কিছু জীবাণু শিলা এবং বাতাস থেকে শক্তি আহরণ করে, অন্যরা শিকারী হয়ে অন্য জীবাণুকে খেয়ে বাঁচে। এই জীবনধারা তাদের প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী করে তুলেছে।
গুহার বিশেষত্ব হলো এটি মানবদেহ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ১৯৮৬ সালের আগে কোনো মানুষ গুহায় প্রবেশ করেনি। ফলে এই জীবাণুগুলোর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবে বিকশিত হয়েছে, যা গবেষকদের নতুন ওষুধ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জেরার্ড রাইট ২০০৬ সালে মাটির জীবাণুতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ জিন খুঁজে পান। এর অর্থ হলো প্রতিরোধ ক্ষমতা মানব ক্রিয়াকলাপের আগে থেকেই বিদ্যমান। লেচুগুইলা গুহার জীবাণুগুলো প্রমাণ করছে, এটি শত শত মিলিয়ন বছরের পুরোনো প্রক্রিয়া।
গুহার এক জীবাণু পেনিব্যাসিলাস sp LC231 পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এটি ৪০টি অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে ২৬টির বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। এদের মধ্যে ড্যাপটোমাইসিনও রয়েছে, যা সাধারণত ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিরুদ্ধে শেষ বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গবেষকরা জীবাণুর জিনোম বিশ্লেষণ করে নতুন পাঁচটি প্রতিরোধ জিন আবিষ্কার করেছেন।
গুহার পরিবেশে সীমিত খাদ্য ও সম্পদ থাকায় জীবাণুরা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ফলে মাইক্রোবিয়াল যুদ্ধের সৃষ্টি হয়। গবেষকরা দেখেছেন, গুহার জীবাণু একে অপরের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে লড়াই করে। একটি নমুনা একসাথে ৩৮টি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল যৌগ তৈরি করেছে, যার মধ্যে তিনটি নতুন ধরণের অ্যান্টিবায়োটিক।
এই তথ্য নতুন ওষুধ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। জীবাণুর প্রতিরোধ কৌশল বোঝার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এমন ওষুধ তৈরি করতে পারবে যা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের বিরুদ্ধে কার্যকর। গবেষকরা আশা করছেন, গুহার জীবাণু আমাদের আধুনিক জীবাণু প্রতিরোধ মোকাবেলায় শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
















