ইসরায়েলের বিমান হামলায় লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তিনজন নিহত হয়েছেন, যদিও প্রায় এক বছর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ দুইজনের মৃত্যুর কথা জানালেও পরবর্তী হামলার পর মৃত্যুর সংখ্যা তিনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দুজন পূর্বাঞ্চলের বালবাক এলাকায় এবং একজন দক্ষিণাঞ্চলের টাইর প্রদেশের নাকুরা এলাকায় নিহত হন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের একজন সিরীয় নাগরিক, যিনি বালবাকের আল-হাফির শহরে ইসরায়েলি হামলার শিকার হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল হিজবুল্লাহর সদস্যরা। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বালবাক অঞ্চলে আলি হুসেইন আল-মুসাভি নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর ভাষায়, তিনি সিরিয়া থেকে লেবাননে অস্ত্র কেনা ও সরবরাহের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং হিজবুল্লাহ সংগঠনের পুনর্গঠন ও শক্তিবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছিলেন।
এছাড়া, নাকুরায় রাস বিয়াদা গ্রামের স্থানীয় হিজবুল্লাহ প্রতিনিধি আবেদ মাহমুদ আল-সাইয়েদকেও হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রায় ১১ মাস আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, লেবানন ও গাজায় দেশটি নিজেদের সিদ্ধান্তে অভিযান চালাবে, কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
তিনি বলেন, “ইসরায়েল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আমরা নিজেদের সামর্থ্যে আত্মরক্ষা করব এবং নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করব। আমরা কারও অনুমোদন চাই না, আমরা আমাদের নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখব।”
এর কিছু ঘণ্টা পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল জানায়, রবিবার বিকেলে কফর কিলা এলাকায় তাদের একটি টহলদলের কাছাকাছি ইসরায়েলি একটি ড্রোন থেকে গ্রেনেড ফেলা হয়। পরে একটি ইসরায়েলি ট্যাংকও গুলি ছোড়ে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইউনিফিল এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব হামলা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তার প্রতি অবহেলার প্রতিফলন।
এর আগে, জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের ভাষায়, “এই আক্রমণগুলো বেসামরিক প্রাণহানি, অবকাঠামো ধ্বংস, বসতবাড়ি, পরিবেশ ও কৃষি এলাকার ক্ষতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে।”
২০২৪ সালের নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলের সেনা সদস্যদের ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু এখনো তারা পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে অবস্থান করছে, যেগুলোকে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
















