গিলগিট-বালতিস্তানে কড়াকড়ি, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট ঘিরে সংঘর্ষ; জাতিসংঘ স্থাপনাও ভাঙচুর
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তানে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশজুড়ে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন এবং উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।
সোমবার ভোরের আগে গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের গিলগিট, স্কার্দু ও শিগার জেলায় কারফিউ কার্যকর করা হয়। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সেখানে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গিলগিটে সাতজন এবং স্কার্দুতে ছয়জন মারা গেছেন।
রবিবার হাজারো বিক্ষোভকারী কাশ্মীর সীমান্তে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক দলের কার্যালয় এবং স্কার্দুতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির দপ্তরে হামলা চালায়। গিলগিটে একটি থানায় অগ্নিসংযোগ, একটি স্কুল ও স্থানীয় দাতব্য সংস্থার কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষক দলের ফিল্ড স্টেশনের কাছে সহিংসতা হয়েছে এবং স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্মী ও স্থাপনার নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
গিলগিট-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র শবির মির বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বুধবার পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকবে। পুলিশ প্রধান আকবর নাসির খান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভে ১০ জন নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের দিকে যাওয়ার সময় আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হন।
দেশজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটগুলো ভিসা সাক্ষাৎকার ও নাগরিক সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
ফেডারেল সরকার সতর্ক করেছে, খামেনির হত্যার প্রতিবাদে বড় আকারের সমাবেশ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
















