ইরানের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনীতিক, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রে
আলি লারিজানি ইরানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। একসময় তাকে বাস্তববাদী ও সংযত কণ্ঠ হিসেবে দেখা হতো—পাশ্চাত্যের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা, দর্শনচর্চা ও কূটনৈতিক তৎপরতায় যার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার বক্তব্যে কঠোর সুর স্পষ্ট হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান নেতৃত্ব হারালেও অস্থিতিশীল হবে—এ ধারণা ভ্রান্ত। সংবিধান অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত যে কোনো ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানের প্রভাবশালী এক ধর্মীয় পরিবারে জন্ম লারিজানির। তার পিতা মির্জা হাশেম আমোলি ছিলেন খ্যাতিমান আলেম। তার ভাইয়েরাও বিচার বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৯ সালের বিপ্লব-পরবর্তী শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ।
শিক্ষাজীবনে তিনি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক এবং পরে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ্চাত্য দর্শনে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ইমানুয়েল কান্ট। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের একাডেমিক পটভূমি তাকে সমসাময়িক রাজনীতিকদের থেকে আলাদা করেছে।
কর্মজীবনে তিনি বিপ্লবী গার্ডে যোগ দেওয়ার পর সংস্কৃতিমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান এবং ২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৫ সালে তিনি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও প্রধান পারমাণবিক আলোচক হন। পরবর্তীতে নীতিগত মতভেদের জেরে পদত্যাগ করলেও ২০২৫ সালে আবার ওই পদে ফিরে আসেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
তবে অতীতে আলোচনায় আগ্রহী ও সমঝোতাপ্রবণ রাজনীতিক হিসেবেও তার পরিচিতি ছিল। সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগে ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় তার সম্পৃক্ততার খবরও প্রকাশিত হয়।
এখন সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর গঠিত অন্তর্বর্তী পরিষদের পাশাপাশি নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছেন। তার সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট, তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন জবাব দিতে চায়, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।
















