বিক্ষোভে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী; নির্বাচনে বৈধতা ও আস্থার লড়াইয়ে পুরোনো শক্তিগুলো
৫ মার্চের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনের আগে নেপালে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো শুধু ভোটের জন্য নয়, নিজেদের গ্রহণযোগ্যতার জন্যও লড়ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে হাজারো তরুণ রাস্তায় নেমে দুই দশক ধরে রাজনীতিতে প্রভাবশালী বয়োজ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের পদত্যাগ দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত স্থবির অর্থনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এতে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন এবং ৭৪ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগে বাধ্য হন। পরে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
এই বিক্ষোভে কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউএমএল, নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি এবং নেপালি কংগ্রেসসহ প্রধান দলগুলোর প্রতি জনঅসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক তরুণ এসব দলকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক শ্রেণি হিসেবে দেখেন।
রাজেশ চাঁদ নামে ২৭ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, তার কাছে নির্বাচন আর পুরোনো বা নতুন দলের প্রশ্ন নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া এবং দুর্নীতি বন্ধ করা। অন্যদিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ রক্ষ্যা বাম বলেন, কোনো দল যদি সংস্কারের এজেন্ডা গ্রহণ করে, তবে তা পুরোনো না নতুন—সেটিই মূল বিষয় নয়। তবে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
নেপালি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা মিনেন্দ্র রিজাল স্বীকার করেন, আন্দোলনের সময়কার রাজনৈতিক অহংকার তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দলটি ভুল স্বীকার করে নতুন নেতৃত্ব এনেছে এবং দ্বিতীয় সুযোগ চাইছে। তবু ভোটারদের সন্দেহ কাটেনি, বিশেষ করে ৪০ বছরের নিচের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের মধ্যে।
অন্যদিকে অলি নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউএমএল এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। দলটি দাবি করছে, তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক এখনো আলোচনায়।
নেপালে মিশ্র নির্বাচনী পদ্ধতিতে ২৭৫ সদস্যের সংসদ গঠিত হবে—১৬৫ জন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ জন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বে। প্রায় ১৯ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে আট লাখ প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হওয়ায় জোট সরকারই সাধারণ চিত্র, যা অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
২০০৮ সালে প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে ১৪টি সরকার ও নয়জন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। তাই আবার অস্থির জোট সরকারের আশঙ্কা তরুণদের উদ্বিগ্ন করছে।
নতুন মুখ হিসেবেও আলোচনায় আছেন কाठमান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র্যাপশিল্পী বালেন শাহ। তিনি জাতীয় স্বতন্ত্র পার্টির হয়ে নির্বাচন করছেন এবং তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে প্রতিষ্ঠিত দলগুলো তার আদর্শিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো দলগুলো নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করছে, কিন্তু কাঠামোগত সংকটের সমাধান কতটা দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন দলগুলোকেও নিজেদের স্পষ্ট আদর্শ ও পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে।
তরুণদের আন্দোলন নেপালের রাজনীতির নিয়ম বদলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন—তারা কি আবার পুরোনো দলগুলোকেই সুযোগ দেবে, নাকি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা গড়ে তুলবে—তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলাফলে।
















