মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমডোর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেল, রেমিট্যান্স এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বহুমাত্রিক সংকটের সম্মুখীন হতে পারে। সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তন ও বাংলাদেশের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও বৈশ্বিক প্রভাব
১. নিয়মতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিপর্যয়:
ইশফাক ইলাহী চৌধুরীর মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন-কানুন অনেকটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই হামলার মাধ্যমে তারই সূচনা হয়েছে। জাতিসংঘ বা ওআইসির মতো সংস্থাগুলো বর্তমানে এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ ও অকার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
২. আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার:
যুদ্ধ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেলেও এটি মূলত আকাশপথেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। আরব বিশ্ব এই হামলার নিন্দা জানালেও তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে বলে মনে হয় না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো আরও শক্তিশালী হতে পারে, যা এই অঞ্চলে এক মেরুর বিশ্বব্যবস্থাকে আরও পোক্ত করবে।
বাংলাদেশের জন্য প্রধান ৩টি ঝুঁকি
ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বাংলাদেশের জন্য নিম্নলিখিত ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করেছেন:
- জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশ কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে। কাতারে হামলা অব্যাহত থাকলে এবং হরমুজ প্রণালি বাধাগ্রস্ত হলে জ্বালানি তেলের দাম হু-হু করে বাড়বে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য বহন করা কঠিন হবে।
- রেমিট্যান্স ও জনশক্তি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক প্রবাসী শ্রমিকের চাকরি হারানোর শঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো যদি মার্কিন ঘাঁটির বাইরে আবাসিক এলাকায় পড়ে, তবে সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীদের হতাহতের ঝুঁকি তৈরি হবে।
- চরমপন্থার উত্থান: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রবাদের জন্ম দিতে পারে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চরমপন্থাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
বাংলাদেশের করণীয়: কৌশলগত সুপারিশ
নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, এই অস্থির সময়ে বাংলাদেশের পদক্ষেপ হওয়া উচিত অত্যন্ত সতর্ক:
| খাত | করণীয় |
| কূটনীতি | কোনো বড় শক্তির একক নিয়ন্ত্রণে না গিয়ে নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা। |
| প্রবাসী সুরক্ষা | আক্রান্ত দেশগুলোতে থাকা দূতাবাসগুলোকে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া। |
| নিরাপত্তা | বাংলাদেশের ভূখণ্ড যেন কেউ অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা। |
| জ্বালানি | সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস এবং কৌশলগত মজুতের সক্ষমতা যাচাই করা। |















