হরমুজ প্রণালীর নিকটে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখার প্রেক্ষাপটে এ উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা কেন্দ্র জানিয়েছে, দুটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে এবং তৃতীয় একটি জাহাজের খুব কাছে অজ্ঞাত বস্তু বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় নৌযান চলাচলে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার জন্য। ফলে প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌযান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সোমবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে তেলের দাম এক পর্যায়ে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে আসে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৬ ডলারের ওপরে উঠে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দামও প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখনো আতঙ্ক ছড়ায়নি, কারণ তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামো সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়নি। তবে হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলারের ওপরে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কেউ কেউ।
রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট উৎপাদন প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে।
মোটরচালিত যানবাহন সংগঠনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়বে। সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, পাম্পমূল্যে প্রভাব তত বেশি হবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং সেগুলোতে আগুন লেগেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, আরব সাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে একাধিক নিরাপত্তা ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাহাজ অনুসরণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর বাইরে উপসাগরের উন্মুক্ত পানিতে নোঙর ফেলেছে। ঝুঁকি ও বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অধিকাংশ জাহাজ প্রবেশ করছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌপথ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, তবে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। কিন্তু প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে একটি বড় আন্তর্জাতিক কন্টেইনার পরিবহন প্রতিষ্ঠান বাব আল-মান্দেব প্রণালী ও সুয়েজ খাল দিয়ে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। দুবাই, দোহা, মানামা ও কুয়েতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















