বসুন্ধরা পরিবারের ৫ সদস্যের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন: শুনানি ২৬ অক্টোবর
দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের কারণে আরোপিত দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান সহ তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্য আদালতে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম, ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা সোবহান এবং অন্য দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানভীর ও সাফওয়ান সোবহান।
সোমবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে সাফওয়ান সোবহান আইনজীবীর মাধ্যমে বিদেশ গমনের অনুমতি চেয়ে আবেদনটি করেন। তাঁর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, সঙ্গে ছিলেন ফোরামের সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক সহ বেশ কয়েকজন বিএনপিপন্থী আইনজীবী। অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ২৬ অক্টোবর এই পাঁচজনের বিদেশ গমনের বিষয়ে অনুসন্ধানী কর্মকর্তার প্রতিবেদন প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাফওয়ান সোবহানের আবেদনের আগেই গত বছরের ডিসেম্বরে আহমেদ আকবর সোবহান, তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম, ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা সোবহান এবং আরেক ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানভীরও বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তাঁদের বিষয়েও আগামী ২৬ অক্টোবর একই সঙ্গে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ২১ অক্টোবর দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, তাঁর ছেলে ও গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর সহ পরিবারের মোট আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত বাকি সদস্যরা ছিলেন আহমেদ আকবর সোবহানের স্ত্রী আফরোজা বেগম, ছেলে সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী সাবরিনা সোবহান, আরেক ছেলে সাদাত সোবহান ও তাঁর স্ত্রী সোনিয়া ফেরদৌস সোবহান এবং অপর দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান সানভীর ও সাফওয়ান সোবহান। দুদকের পক্ষ থেকে উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন লিখিতভাবে আদালতকে জানিয়েছিলেন যে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, রাজস্ব ফাঁকি, ভূমি জবরদখল, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জন সহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তাঁরা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছিল দুদক, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
















