ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় জাহাজ চলাচল বন্ধ; তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হওয়ার ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের উত্তাপে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন স্থগিত করেছে শীর্ষস্থানীয় তেল ও বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর নিরাপত্তার খাতিরে জাহাজগুলো যেখানে আছে সেখানেই নোঙর করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সরু জলপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় পরিবহন বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা এবং চরম মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
১. কেন হরমুজ প্রণালি এত গুরুত্বপূর্ণ? আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্যবর্তী এই জলপথটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তর দিক এবং ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই সরু পথটিই মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর একমাত্র সমুদ্রপথ।
২. বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিপর্যয়: জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, এই পথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে:
- তেলের দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
- বৈশ্বিক মন্দা: জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়বে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে চরম মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে।
- সরবরাহব্যবস্থা: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
৩. দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব (বাংলাদেশ ও ভারতসহ): আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যমতে, এই পথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশের ভোক্তা দক্ষিণ এশিয়া।
- ক্ষতিগ্রস্ত দেশ: চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুরের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরাসরি এই পথ দিয়ে তেল আমদানি করে।
- ফলাফল: হরমুজ প্রণালিতে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই এসব দেশের স্থানীয় বাজারে তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে।
৪. ইরানের ‘শেষ অস্ত্র’: ইরান হুমকি দিয়েছে যে, তারা আক্রান্ত হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। যদিও এটি করলে ইরানের নিজস্ব বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে একে তারা বিশ্ববাণিজ্যের ‘নাড়ি চেপে ধরা’র মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। বর্তমানে ইরানে হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
















