রাজধানী ছাড়ার আহ্বান তেহরানের, ঘরে থাকার ডাক ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর
ইন্টারনেট বন্ধ, সীমিত মোবাইল সংযোগ, আতঙ্কে দীর্ঘ যানজট ও জ্বালানি স্টেশনে ভিড়
তেহরান, ইরান – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর ইরানের ভেতরে ও বাইরে থাকা নেতারা সরাসরি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। তবে এসব বার্তা পরস্পরবিরোধী হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে তেহরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানী তেহরানের প্রায় এক কোটি বাসিন্দার মোবাইলে পাঠানো এক খুদেবার্তায় সরকার জানায়, চলমান হামলার প্রেক্ষাপটে শান্ত থেকে সম্ভব হলে অন্য শহরে চলে যেতে। সকাল থেকেই রাজধানী থেকে বের হওয়ার সড়কগুলোতে তীব্র যানজট দেখা যায়। বহু মানুষ গাড়ি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের কাস্পিয়ান সাগর সংলগ্ন প্রদেশগুলোর দিকে রওনা হন।
পেট্রোলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সরকার দাবি করে, খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহে কোনো সংকট হবে না এবং জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর রয়েছে। শহর ছাড়তে চাওয়া নাগরিকদের সহায়তায় সড়কের পাশে অস্থায়ী জ্বালানি কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ইরানি জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান এবং উপযুক্ত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামার কথা বলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভিও একই ধরনের আহ্বান জানান। পাহলভি বলেন, সঠিক সময় জানানো হলে জনগণকে আবার রাস্তায় নামতে হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে সহিংসতার জন্য বিদেশি শক্তি দায়ী। তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কঠোর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে। গত জানুয়ারির আন্দোলনে বহু মানুষের প্রাণহানির খবর রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব ও রাজধানী তেহরানে দুটি বিদ্যালয়ে হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে।
রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ সদস্যদের মোটরসাইকেলে টহল দিতে দেখা গেছে। ফিলিস্তিন স্কয়ারে সরকারপন্থীরা সমাবেশ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
যুদ্ধ শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ সীমিত করা হয়। পরে সারা দেশে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, কেবল কিছু সীমিত সংযোগ সচল থাকে। এর আগেও দেশজুড়ে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নজির রয়েছে।
সরকার নাগরিকদের কেবল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে এবং সন্দেহজনক তৎপরতা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছে। শত্রুদের সঙ্গে সহযোগিতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে তেহরানের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়, তবে দূর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ অব্যাহত থাকে। অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যেই দিন পার করছেন ইরানের সাধারণ মানুষ।
















