ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে রিপাবলিকানদের সমর্থন, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অনৈক্য ও কংগ্রেস অনুমোদন বিতর্ক
সামরিক অভিযানের বৈধতা, প্রতিশোধের আশঙ্কা ও জনমত জরিপে বিভক্ত আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান নেতাদের বড় অংশ প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একক ও শক্ত অবস্থান দেখা যায়নি।
খবরে বলা হয়েছে, হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে ৮০ জনের বেশি নিহতের ঘটনা রয়েছে, যাদের অনেকেই শিশু। পাল্টা হিসেবে ইরান ইসরায়েল এবং বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা যায়, ৩৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ইরানে হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন, বিপক্ষে ৪৫ শতাংশ। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ এবং স্বতন্ত্রদের মধ্যে ২১ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের ৬৮ শতাংশ হামলাকে সমর্থন করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে রক্ষা করা এবং ইরানি সরকারের আসন্ন হুমকি প্রতিহত করাই এই অভিযানের লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য, ইরানের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, ঘাঁটি ও মিত্রদের সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছিল।
প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন ও সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সন্ত্রাসে সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি তৈরি করে আসছিল। তাঁদের দাবি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া হামলার সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিজ বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছে, যা মার্কিন সেনাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার প্রশাসনের কাছ থেকে হুমকির প্রকৃতি ও জরুরিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও ক্রিস ভ্যান হোলেন এই যুদ্ধকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব পাসের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিনিধি রো খানা কংগ্রেসে জরুরি ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন। একই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি, যিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণায় কংগ্রেসের ভোট প্রয়োজন।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ও টম কটন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কামালা হ্যারিস এবং প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজসহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট এই হামলাকে অপ্রয়োজনীয় ও অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করে সাধারণ মানুষের জীবন আরও সংকটে ফেলা হচ্ছে। অপরদিকে সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিন অভিযোগ করেন, বিদেশে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করতে পারেনি।
সব মিলিয়ে ইরানে হামলাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভক্তি তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন, সামরিক অভিযানের বৈধতা এবং সম্ভাব্য আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা এখন দেশটির রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
















