ফেয়ারমন্ট হোটেলকে গ্রাস করেছে আগুন; মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের অন্যতম অভিজাত এলাকা ‘দ্য পাম’-এর একটি বিলাসবহুল হোটেলে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংঘটিত এই হামলায় দুবাইয়ের বিখ্যাত ‘দ্য ফেয়ারমন্ট’ হোটেলটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবনটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আগুনের লেলিহান শিখা হোটেলটিকে প্রায় পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছে। ইসরায়েলের ওপর ইরানের চলমান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই দুবাইয়ের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এই আঘাত আসার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রা যোগ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ একটি বিকট শব্দের পরপরই হোটেল ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ছেয়ে ফেলে। আমিরাত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না পাওয়া গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যচ্যুত অংশ বা সরাসরি কোনো প্রজেক্টাইল এই হামলার কারণ হতে পারে। এই ঘটনার পরপরই দুবাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দ্য পাম এলাকা থেকে পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুবাইয়ের মতো একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে এমন হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বিশেজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সরাসরি সংঘাত এখন কেবল দুই দেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আরব দেশগুলো যারা পশ্চিমা মিত্র হিসেবে পরিচিত, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।
অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে হোটেলের ভেতরে থাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
















