বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারেন। দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি ওমরাহ শেষ করেই দেশে ফিরবেন। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের জন্য তাঁর বাসভবন, অফিস এবং বুলেটপ্রুফ গাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে গুলশান পর্যন্ত, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে চেয়ারপারসনের অফিস, এমনকি তাঁর বাসভবন—সবখানেই চলছে সংস্কার এবং নিরাপত্তা জোরদার করার কাজ। দীর্ঘ দেড় যুগ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে, দলের আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথে আইনি কোনো বাধা নেই এবং তাঁকে দেশে ফিরে আদালত প্রাঙ্গণে যেতে হবে না। তিনি বলেন, “আদালতের তাঁর কোনো ধরনের কোনো ম্যাটার নেই। যেহেতু প্রত্যেক মামলায় খালাস পেয়েছেন। আর অনেকগুলো মামলা রয়েছে যেগুলো জরুরি অবস্থার সময় দায়ের করা হয়েছিল সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সময়ের মামলা খালাস ও নিষ্পত্তি হয়েছে।”
যদিও তারেক রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো কাটেনি। দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বিএনপি তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি পেয়েছে এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য অপেক্ষা করছে। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বুলেটপ্রুফ গাড়ির জন্য। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের। গাড়ির অনুমোদন পেয়েছেন। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স অপেক্ষমাণ। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে তিনি দেশে আসবেন বা আসতে পারেন।”
অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা ঘিরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “তারেক রহমান সাহেব তিনি দেশে ফিরবেন। সেজন্য আমাদের দলের পক্ষ থেকে যে সকল প্রস্তুতি নেয়া সেগুলোর জন্য দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিছু।”
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট নয়, বরং সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, “যখন দেশে আসবেন তখন নিরাপত্তা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই যথেষ্ট নয়। এইটা দিয়ে যে পরিমাণ নিরাপত্তা দরকার সেটা কিন্তু দেয়া সম্ভব না। সরকারকে জানাবো, তারা এসএসএফ দেবে, আর্মি দেবে না কাকে দেবে তা সরকার দেখবে।”
তিনি আরও জানান, “তারেক রহমান সামনের মাসে ওমরাহ করতে যাবেন। আমার একটা ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কথা হয়েছিল তখন বলেছিল আপনাকে এক মাস সময় দিবো কবে আসবো। আমরা অপেক্ষায় আছি তিনি কবে জানাবেন। তবে আমাদের প্রস্তুতি আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।” তারেক রহমান ঠিক কত তারিখে দেশে ফিরবেন, সেই তারিখটি এখনো চূড়ান্তভাবে জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত যে, দেশে ফেরার আগে তিনি সৌদি আরব যাবেন এবং ওমরাহ শেষ করেই দেশে ফিরবেন।
















