৩৭ বছর বয়সে ঘরে থালা-বাসন ধোয়ার সময় হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন আমান্ডা জেমস-হ্যামেট। তিনি বলেন, মাথার ভেতর যেন কিছু ফেটে যাওয়ার শব্দ শুনেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই কথা বলার ক্ষমতা এবং ডান হাত নাড়ানোর সামর্থ্য হারান তিনি। পরে তাকে নতুন করে কথা বলা, পড়া ও দৈনন্দিন কাজ শিখতে হয়।
ছয় বছর পর তিনি যুক্তরাজ্যজুড়ে পরিচালিত জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার এক পরীক্ষামূলক প্রকল্পে অংশ নেন, যেখানে ঘরে বসে ব্যবহারের উপযোগী নতুন একটি যন্ত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছে শেফিল্ড টিচিং হাসপাতালস স্বাস্থ্যসেবা ট্রাস্ট এবং শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ২০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে পরিচালিত এই গবেষণায় প্রায় ২৭০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
রয়্যাল হলামশায়ার হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শেহরিয়ার বেইগ বলেন, স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সংশ্লিষ্ট অংশ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এতে দুর্বলতা, দৃষ্টিসমস্যা বা কথাবলার জটিলতা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং বহু মানুষ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন।
এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা একটি ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করেন, যা কানের ভেতরে বসে ভেগাস স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে। পুনর্বাসন ব্যায়ামের সময় এই স্নায়ু উদ্দীপনা মস্তিষ্ককে আরও সক্রিয় করে তুলতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগের প্রযুক্তির মতো অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না; এটি ঘরে বসেই ব্যবহার করা যায় এবং ব্যথাহীন।
আমান্ডা ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা এই যন্ত্র ব্যবহার করেন। শুরুতে তিনি সন্দিহান ছিলেন, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর হাতের নড়াচড়ায় উন্নতি টের পান। তার কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল আবার সেলাই মেশিন ব্যবহার করতে পারা—একটি শখ যা স্ট্রোকের পর তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন।
তিনি বলেন, এখন তিনি নিজে মোজা-জুতা পরতে পারেন, গৃহস্থালি কাজ করতে পারেন। অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয় না। “ছোট ছোট কাজই বড় পরিবর্তন আনে,” বলেন তিনি।
গবেষকরা জানান, এখনো জানা যায়নি কারা সক্রিয় উদ্দীপনা পাচ্ছেন আর কারা পরীক্ষামূলক নিয়ন্ত্রণ দলে আছেন। তবে প্রাথমিক ফল আশাব্যঞ্জক। কেউ আগে এক হাতে চায়ের কাপ বহন করতে পারতেন না, এখন তা সম্ভব হচ্ছে।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের চিত্রায়ন ও রক্তপরীক্ষার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করছেন কারা এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন। এটি কার্যকর প্রমাণিত হলে সহজে বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমান্ডার কথায়, “এটি স্বাধীন হওয়ার বিষয়। আমার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে।”
















