চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ চলছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ধীরে ধীরে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে এবং কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আঞ্চলিক লোক প্রশাসন কেন্দ্রের দুটি কেন্দ্রে মাঝারি আকারের সারি দেখা যায়। একটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেবিএম মোস্তফা জামান জানান, তার কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৮৬২ জন ভোটার রয়েছেন এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। প্রতি ঘণ্টায় উপস্থিতির হিসাব করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
একই স্থানের অন্য একটি কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, তার কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। সেখানে মোট ২ হাজার ৮৬৮ জন ভোটার রয়েছেন এবং সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ১৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ইস্ট নাসিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথম ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ।
জেলা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
ভোটের শুরুতেই বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে এক প্রার্থী চান্দগাঁওয়ের সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কথা জানান।
চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে এক প্রার্থী সকাল ৯টার দিকে জাকির হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তিনি সকল মানুষের প্রতিনিধি হতে চান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনের এক প্রার্থী মিরেরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কথা জানান।
চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনের এক প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নুর আহমদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে পরিবেশকে উৎসবমুখর বলে মন্তব্য করেন। একই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দক্ষিণ পাইন্দং মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বলেন।
চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনে এক প্রার্থী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামে অর্থ বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি চন্দনাইশ সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর দাবি করেন, এ অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের এক প্রার্থী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দুপুর পর্যন্ত জেলায় ভোটার উপস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
















