ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, ভুয়া উদ্ধৃতি, বিকৃত ছবি ও কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই ছড়ানো হচ্ছে।
এক মাসের পর্যবেক্ষণে ২২০টি অপতথ্যের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতপন্থী পেজ ও প্রোফাইল থেকে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে—মোট ঘটনার প্রায় অর্ধেক। আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী উৎস থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপতথ্য প্রচার হয়েছে।
এই ২২০টি পোস্ট প্রকাশের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দুই মিলিয়নের বেশি প্রতিক্রিয়া (লাইক, মন্তব্য, শেয়ার) পেয়েছে। এর বড় অংশই এসেছে জামায়াত-সমর্থিত পেজগুলোর কনটেন্টে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।
বেশিরভাগ অপতথ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়েছে। জামায়াতপন্থী কনটেন্টের বড় অংশ বিএনপিকে টার্গেট করেছে, আর বিএনপিপন্থী কনটেন্টের বেশিরভাগই জামায়াতকে লক্ষ্য করে। আওয়ামী লীগপন্থী কনটেন্টে অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ কনটেন্ট ছিল বিকৃত উপস্থাপন—যেখানে আংশিক সত্যকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া নথি, মনগড়া উদ্ধৃতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি দৃশ্যও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপতথ্যের মূল লক্ষ্য অনির্ধারিত বা দোদুল্যমান ভোটারদের প্রভাবিত করা। ধর্ম, সহিংসতা ও জাতীয় স্বার্থের মতো স্পর্শকাতর বিষয় ব্যবহার করে আবেগ উসকে দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে।
তারা সতর্ক করেছেন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অপতথ্য শুধু রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ায় না, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থাও ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই সচেতনতা ও তথ্য যাচাই এখন সময়ের দাবি।
















