সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো—
যুদ্ধ পরিস্থিতি
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওডেসায় রাশিয়ার ‘ব্যাপক’ বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।
রাতভর হামলায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় পোলতাভা অঞ্চলে দেশটির প্রধান তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এটি তাদের ওপর চালানো রাশিয়ার ১৯তম হামলা, তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা স্পষ্ট করা হয়নি।
রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, রাশিয়ার বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের হ্লুশকিভকা এবং সুমি অঞ্চলের সিদোরিভকা বসতি দখল করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ইউক্রেনের হামলার বৈধ লক্ষ্য, কারণ এই খাত থেকেই অস্ত্র উৎপাদনের অর্থ জোগান দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের শহর ও গ্রামে দুই হাজারের বেশি ড্রোন, এক হাজার ২০০টি নির্দেশিত বিমানবোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ১১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, শান্তি আলোচনায় বাকি থাকা কঠিন বিষয়গুলো মেটাতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের সরাসরি বৈঠক প্রয়োজন। তার মতে, চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
সিবিহা জানান, সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তি হিসেবে থাকা ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার মাত্র কয়েকটি বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। তবে এগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং জটিল, যা কেবল শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অনুমোদনে প্রস্তুত এবং শান্তিচুক্তিকে সমর্থন দিতে একটি নিরাপত্তা সহায়তা কাঠামো দেবে, যদিও ইউক্রেনে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না।
সিবিহা আরও জানান, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বাইরে আরও কয়েকটি দেশ শান্তিচুক্তি হলে ইউক্রেনে প্রতিরোধমূলক বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুতি জানিয়েছে।
রাজনীতি
রাশিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত রুশ নাগরিককে দুবাই থেকে মস্কোয় প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ওই হামলায় গুরুতর আহত হলেও আলেক্সেয়েভ বেঁচে যান।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে সহায়তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইউক্রেন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তার দাবি, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া এখনো বিদেশ থেকে এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করছে।
জ্বালানি ও বাণিজ্য
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য রাশিয়ার তেল কেনা এড়িয়ে চলছে। এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকতে পারে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এগিয়ে নিতে নয়াদিল্লিকে সহায়তা করতে পারে।
















