রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদনের পর জার্মানির স্যাক্সনি রাজ্যের একটি খামার বিনামূল্যে আলু বিতরণ শুরু করেছে। অতিরিক্ত ফলনের কারণে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে রাজধানী বার্লিনে ট্রাকভর্তি আলু পৌঁছাতে শুরু করে। শীত ও বরফ উপেক্ষা করে বহু মানুষ বিনামূল্যের আলু সংগ্রহে বেরিয়ে পড়েন। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বড় আলু উদ্ধার অভিযান’। এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ কেজি অতিরিক্ত আলু নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, খাদ্য ব্যাংক, স্কুল ও গির্জাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই বিতরণ থেকে উপকৃত হচ্ছে।
তবে সবাই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়নি। ব্রান্ডেনবুর্গ কৃষক সমিতি এটিকে ‘রুচিহীন প্রচারণামূলক কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এতে স্থানীয় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে জার্মানি আলু উৎপাদনে শীর্ষে। গত বছরের বিপুল ফলনের কারণে বাজারে আলুর সরবরাহ অতিরিক্ত হয়ে পড়েছে। আয়োজকদের একজন জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য আলুকে একটি মূল্যবান খাদ্য হিসেবে মানুষের নজরে আনা।
একটি সংবাদপত্র পরিবেশবান্ধব একটি অনুসন্ধান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে আলু পরিবহন ও বিতরণের খরচ বহন করছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি প্রতিষ্ঠান জানায়, চুক্তি বাতিল হওয়ার পর তাদের কাছে এই বিপুল আলু জমে যায়। তাই মাঠে ফেলে না দিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ কেজি আলু ইতোমধ্যে বার্লিনসহ জার্মানির বিভিন্ন এলাকা ও ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, চাইলে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বিনামূল্যে আলু বিলি করলে খাদ্যের প্রকৃত মূল্য ক্ষুণ্ন হয়।
বার্লিনে একটি বিশেষ ওয়েবসাইটে আলু সংগ্রহের জন্য প্রায় ১৭৪টি কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে আলু না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এই উদ্যোগের খবর দ্রুতই জার্মানি ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। আলুর প্রতি জার্মানদের ঐতিহ্যগত আগ্রহের কারণে বিষয়টি বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। তবে অর্থায়ন কমে আসায় বার্লিনে শিগগিরই এই বিতরণ কার্যক্রম ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরেক দফা আলুবাহী ট্রাক আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।















