আসিফের বাসা ছাড়ার দাবি নাকচ করলেন কর্মচারীরা; নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাবেক সচিবরা
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার প্রায় দুই মাস পার হতে চললেও এখনও সরকারি বাসভবন ছাড়েননি ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম।
গত ১০ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর ৫০ দিন অতিবাহিত হলেও হেয়ার রোডের সরকারি বাংলোগুলো এখনও তাঁদের দখলেই রয়েছে। আসিফ মাহমুদ এক মাস আগেই বাসা ছেড়েছেন বলে দাবি করলেও বুধবার রাতে তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত ‘নিলয়-৬’ ভবনে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মচারীদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি এখনও নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করেন এবং বাসাটি তাঁর নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেয়ার রোডের ‘উত্তরায়ন-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে থাকা মাহফুজ আলম জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের আগেই বাসা ছেড়ে দেবেন। তবে আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে পরিবাগের বাসায় থাকেন। যদিও তাঁর সরকারি বাসার কর্মচারীরা বলছেন, “স্যার তো আছেন, বাসা ছাড়েননি। তিনি এখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।” সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, আবাসন নীতিমালায় মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের পদত্যাগের পর কতদিন বাসায় থাকা যাবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ নেই। তবে বিষয়টি সচিবকে অবহিত করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাবেক উপদেষ্টাদের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে সুশীল সমাজে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার ১৯৭৮ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, “কাজী জাফর আহমেদ পদত্যাগপত্র দেওয়ার দুই দিন আগেই সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং পদত্যাগের পর আর সরকারি গাড়িতে ওঠেননি। ২০২৬ সালে এসে আমরা নৈতিকতার দিক থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি।” উল্লেখ্য, পদত্যাগের পর আসিফ মাহমুদ বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাঁদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হলেও এখনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।
















