ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ‘মাদার অব অল ডিলস’ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ; ২০২৯-পরবর্তী রপ্তানি নিয়ে শঙ্কা
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একাধিপত্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে ‘মাদার অব অল ডিলস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতের রপ্তানি দ্বিগুণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ইইউতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও ভারতের এই নতুন চুক্তির ফলে সেই প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বা ‘প্রাইস গ্যাপ’ কমে আসবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা কমিয়ে দিতে পারে।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের শক্তিশালী স্থানীয় সুতা ও কাপড় শিল্প (ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ) থাকায় তারা ইইউ-এর ‘রুলস অব অরিজিন’ শর্ত সহজেই পূরণ করতে পারবে। অন্যদিকে, ২০২৯ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশ যদি জিএসপি প্লাস সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে পোশাক রপ্তানিতে চড়া শুল্কের মুখে পড়বে। আরএপিআইডি-র চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে বাংলাদেশকে দ্রুত ইইউ-এর সঙ্গে নিজস্ব এফটিএ আলোচনা শুরু করতে হবে এবং ‘সিঙ্গেল স্টেজ’ রুলস অব অরিজিন সুবিধা আদায় করতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে, ইইউ-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে যোগাযোগ শুরু হয়েছে এবং গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার আগেই সমাধান আসবে। তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ বলছেন, ভারতের এই চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রায় ১৯ বছর সময় লেগেছে, সেখানে বাংলাদেশের হাতে সময় আছে মাত্র চার বছর। এই স্বল্প সময়ে শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ গড়ে তোলা এবং নীতিগত সংস্কার না করলে ২০২৯ সালের পর ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ভারতের আগ্রাসী শিল্পনীতি ও সুতা রপ্তানিতে বিশেষ ছাড় বাংলাদেশি মিলগুলোর জন্য নতুন সংকট তৈরি করছে।
















