যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমারের ওপর জনসভা চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার মিনিয়াপোলিসে আয়োজিত এক টাউন হল বৈঠকে এক ব্যক্তি তার ওপর অজ্ঞাত একটি তরল ছিটিয়ে দেয়।
হামলার সময় ইলহান ওমার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছিলেন। হামলায় তিনি আহত হননি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে তৃতীয় ডিগ্রির হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী ধরনের তরল ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনাটির ভিডিও সম্প্রচারিত হলে দেখা যায়, বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ মঞ্চের দিকে দৌড়ে এসে সিরিঞ্জের মাধ্যমে গাঢ় রঙের একটি তরল ওমারের দিকে ছিটিয়ে দেয়। সে সময় ওই ব্যক্তি তাকে পদত্যাগ করতে বলে চিৎকার করছিল।
নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত হামলাকারীকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। উপস্থিত দর্শকরা বিস্ময় ও আতঙ্ক প্রকাশ করেন। একজন দর্শককে বলতে শোনা যায়, তিনি তার ওপর কিছু ছিটিয়ে দিয়েছে।
হামলার পর ওমার জানান, তিনি ঠিক আছেন। যদিও উপস্থিত কয়েকজন দাবি করেন, ছিটানো তরলটির গন্ধ খুব খারাপ ছিল এবং তাকে চিকিৎসা পরীক্ষা করানো উচিত।
এরপর আবার মঞ্চে ফিরে ওমার বলেন, এ ধরনের হামলা তাকে দমাতে পারবে না। তিনি বলেন, মিনেসোটার মানুষ শক্তিশালী এবং যেকোনো প্রতিকূলতার মুখেও তারা দৃঢ় থাকবে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ওমার বলেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যাবে না। তিনি তার সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে। মিনিয়াপোলিসের মেয়র বলেন, সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো জায়গা নেই। মতপার্থক্য থাকলেও কারও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
দক্ষিণ ক্যারোলিনার এক কংগ্রেস সদস্যও হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও কোনো জনপ্রতিনিধির ওপর শারীরিক হামলা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সোমালি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইলহান ওমার অতীতে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরোধিতা এবং অভিবাসন সংস্কারসহ প্রগতিশীল অবস্থানের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মিনিয়াপোলিসে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের বিরোধিতায় তিনি সরব ভূমিকা রেখে আসছেন।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন হিসেবে ইতিহাস গড়েন ইলহান ওমার। ২০২৪ সালে তিনি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের প্রগতিশীল জোটের সহসভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার উদ্বেগ নতুন করে সামনে এনেছে।
















