রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের পরিস্থিতি বুধবার ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নানা দিক থেকে উত্তপ্ত রয়েছে। সামরিক সংঘর্ষ, জ্বালানি সংকট এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় দিনটি ছিল ঘটনাবহুল।
ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, হামলার পর চারজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন।
ওডেসা অঞ্চলে একটি ভবনে রুশ হামলায় তিনজন নিহত এবং পঁচিশজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহিয় লিসাক। একই দিনে কস্তিয়ানতিনিভকা শহরে একটি কিন্ডারগার্টেনে আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা হামলায় একজন নিহত হন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সেটি স্থানীয়দের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সুমি অঞ্চলের হ্রাবোভস্কে গ্রাম থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় রুশ ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে তারা জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের নোভোইয়াকিভলিভকা এবং খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক-ভুজলোভি দখলের দাবি করেছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে কুপিয়ানস্ক-ভুজলোভি দখলের দাবি অস্বীকার করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবী সামরিক মানচিত্রেও ওই এলাকায় রুশ সেনা উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।
রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ভ্যালেরি গেরাসিমভ বলেন, চলতি মাসে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ১৭টি বসতি দখল করেছে এবং পাঁচশ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও এই দাবিও স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত হয়নি।
এদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল জানিয়েছেন, রাজধানী কিয়েভে এখনো সাত লাখ দশ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিয়েভসহ কয়েকটি শহর ও সামনের সারির এলাকাগুলোতে ব্যবহারের জন্য চারশ সাতচল্লিশটি জেনারেটর দিচ্ছে, যার মধ্যে ছিয়াত্তরটি ইতোমধ্যে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইউক্রেনীয় হামলার কারণে গত সপ্তাহে রাশিয়া ও রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় অঞ্চলের প্রায় তেরো লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি নাফটোগাজ জানিয়েছে, দেশের পশ্চিমাঞ্চলে তাদের একটি স্থাপনায় রুশ হামলা হয়েছে।
রাজনীতি ও কূটনীতির অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে, যদিও তিনি বিস্তারিত জানাননি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছেন, ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারই শান্তির পথ। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ নিলেই যুদ্ধের অবসান সম্ভব।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী জাহাজ স্পেনের সহায়তায় মরক্কোর তানজের মেদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অরপো বলেছেন, চীন চাইলে রাশিয়ার ওপর প্রভাব খাটিয়ে এবং সহযোগিতা কমিয়ে এই যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সময়ে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দং জুন রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে স্লোভাকিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের রুশ গ্যাস আমদানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।
যুদ্ধের এক হাজার চারশ চৌত্রিশতম দিনে সামরিক সংঘর্ষ, বিদ্যুৎ সংকট ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েন ইউক্রেন সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
















