মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তেকে বিচার মোকাবিলার উপযুক্ত বলে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। সোমবার আদালতের বিচারকরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা এমন নয় যে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অক্ষম।
আদালত জানায়, দুয়ার্তের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে আশি বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট গুরুতর অসুস্থ এবং বিচারকার্যে অংশ নেওয়ার মতো সক্ষম নন। তবে স্বাধীন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেই দাবি খারিজ করা হয়েছে।
আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাসঙ্গিক আইনি নীতিমালা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রতিবেদন এবং মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিচারকরা সন্তুষ্ট যে দুয়ার্তে তাঁর আইনি অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম। এই বিশেষজ্ঞ দলে বার্ধক্যজনিত স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোরোগবিদ্যার চিকিৎসকরাও ছিলেন।
বিচারকরা আরও বলেন, কোনো আসামিকে বিচারযোগ্য হিসেবে গণ্য করার জন্য তাঁর সর্বোচ্চ মানসিক সক্ষমতা থাকা জরুরি নয়; বরং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকলেই যথেষ্ট।
আন্তর্জাতিক আদালতে খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো আসামিকে পুরোপুরি বিচার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এর আগে কখনো কাউকে বিচার অযোগ্য বলে রায় দেয়নি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দুয়ার্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিশ্চিতকরণ শুনানি শুরু হবে। ওই শুনানিতে বিচারকরা নির্ধারণ করবেন, প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগগুলো পূর্ণাঙ্গ বিচারের জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী কি না।
দুয়ার্তের প্রধান আইনজীবী এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে জানান, তাঁরা আপিল করবেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিরক্ষা পক্ষকে নিজেদের চিকিৎসা প্রমাণ উপস্থাপন এবং আদালত-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
দুয়ার্তে বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের হেগে আটক রয়েছেন। গত মার্চে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা সে সময় এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, দুয়ার্তে ডাভাও শহরের মেয়র থাকা অবস্থায় এবং পরে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তথাকথিত মাদকবিরোধী যুদ্ধে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি মৃত্যু স্কোয়াড গঠন, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন, যারা হাজার হাজার সন্দেহভাজন মাদক ব্যবসায়ী ও ব্যবহারকারীকে হত্যা করে।
এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। ফিলিপাইনের জাতীয় পুলিশের হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ছয় হাজারের বেশি, তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে এই সংখ্যা ত্রিশ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
দুয়ার্তে বরাবরই দাবি করে আসছেন, তিনি পুলিশকে কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানকে সমর্থন করে বহুবার বলেছেন, দেশ থেকে মাদক নির্মূলের জন্য প্রয়োজনে কারাগারে পচে মরতেও তিনি প্রস্তুত।
















