নির্বাচনের ১৫ দিন আগে ইউএনও বদলি ও বাতিল; অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির তোড়জোড়
মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনে একের পর এক ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্ত নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গত ২০ জানুয়ারি আট উপজেলার ইউএনওকে বদলি করা হলেও মাত্র দুদিন পরেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রায় ৩০০ জন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার তোড়জোড় চলছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সাবেক আমলারা বলছেন, বিদায়বেলায় এ ধরনের সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ জানুয়ারি ভোলার চরফ্যাশন, বগুড়ার ধুনট ও হবিগঞ্জের বাহুবলসহ আট উপজেলার ইউএনওদের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কিন্তু রাজনৈতিক দলের আপত্তি ও চাপের মুখে ২২ জানুয়ারি সেই আদেশ বাতিল করা হয়। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া একে ‘স্বাধীনতা পরবর্তী দুর্বলতম প্রশাসনের’ উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তাঁর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনমনে সন্দেহ তৈরি করে—কেন বদলি করা হলো আর কেনই বা বাতিল করা হলো। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিসিএস ২০তম ব্যাচসহ প্রায় দেড় শতাধিক যুগ্ম-সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিতে এসএসবির (SSB) দফায় দফায় বৈঠক চলছে। চলতি মাসেই এই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
জ্যেষ্ঠ আমলারা সতর্ক করেছেন যে, ভোটের ‘নাকের ডগায়’ এত বড় পদোন্নতি অতীতে ভালো ফল বয়ে আনেনি। যদিও সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন পদোন্নতি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, তবে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এটি স্থগিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হতো। নজিরবিহীন এই অস্থিরতা ও বিলম্বিত সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
















