ব্যাংকিং খাতে সংস্কারে বড় ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, বললেন গভর্নর
বাংলাদেশের বাস্তবতায় অতিরিক্ত ব্যাংক নয়, বরং সীমিত সংখ্যক শক্তিশালী ব্যাংকই অর্থনীতির জন্য কার্যকর—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকাই যথেষ্ট। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে দুটি রেখে বাকি ব্যাংকগুলো একীভূত (মার্জ) করার প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ব্যাংকিং খাত: বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোকবক্তৃতায় তিনি বলেন, ভারতে মাত্র চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক রয়েছে। সেখানে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমাদের কি এতগুলো ব্যাংক দরকার? আমাদের দরকার বড় ও শক্তিশালী ব্যাংক। এতে ওভারহেড খরচ কমবে, ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমবে।”
গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক তদারকি করা বাংলাদেশ ব্যাংক–এর জন্য অত্যন্ত চাপের। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকটের জন্য তিনি সুশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন, যা সরকারি ও রাজনৈতিক—উভয় পর্যায়েই ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন।
তার ভাষায়, রাজনৈতিক নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে, নির্দেশিত হয়ে ব্যাংক অধিগ্রহণ করা হয়েছে। একই পরিবারের হাতে একাধিক ব্যাংক কেন্দ্রীভূত করে সেখান থেকে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন না থাকলে ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের লুটপাটের ঝুঁকি থাকবে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক খাতের দুরবস্থার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সব সরকারই ব্যাংকিং খাতের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দেশের বন্ড মার্কেট ও স্টক মার্কেট পিছিয়ে থাকায় ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি–এর আহ্বায়ক মাহবুব উল্লাহ বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইঙ্গিত না পেলে ব্যাংকের ভল্ট খুলে অর্থ নেওয়া সম্ভব হতো না। কারা কীভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থ বের করে নিয়েছে, তার বিবরণ প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজাউল করিম বলেন, ব্যাংক খাত যে কতটা নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে, তা এখন স্পষ্ট। পুনরুদ্ধারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফ মোশারফ হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা এবং অর্থনীতি সমিতির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন।
















