প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি নয়; গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে তৈরি হবে নতুন নেতৃত্ব
সংসদকে দলীয় দাসত্ব ও ব্যক্তিপূজা থেকে মুক্ত করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুসংহত করার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে গণভোটের ডাক দিয়েছে, তার প্রচারণায় অংশ নিয়ে রিজওয়ানা হাসান সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বিগত দিনের ধারা বদলাতে এবারের জোড়া ভোট (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:
- ব্যক্তিপূজা ও সংসদ: উপদেষ্টা বলেন, অতীতে সংসদকে ব্যক্তি তুষ্টির জায়গায় পরিণত করা হয়েছিল। আইন প্রণয়নের বদলে গান গেয়ে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে খুশি করার রাজনীতি আমরা আর দেখতে চাই না।
- নতুন নেতৃত্ব: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে নিয়ম হবে যে, ১০ বছরের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এর ফলে দলগুলো নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে বাধ্য হবে এবং তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে আগ্রহী হবে।
- ভারসাম্য রক্ষা: নতুন প্রস্তাবে স্পিকার সরকারি দল থেকে এবং ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন, যা সংসদে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
- ৫৪ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার: গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক জঞ্জাল পরিষ্কার করে দেশকে ঐক্যের পথে এগিয়ে নিতে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
গণভোট ও নির্বাচনী প্রচারণার আপডেট:
| বিষয় | বিবরণ ও লক্ষ্য |
| ভোটের তারিখ | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে)। |
| প্রধান প্রস্তাব | প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য। |
| সংশ্লিষ্ট জেলা | ফরিদপুর (জেলা প্রশাসন আয়োজিত উদ্বুদ্ধকরণ সভা)। |
| উদ্বোধন | জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘গণভোটের রিকশা’ ও প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন। |
ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপদেষ্টা ভোটারদের আরও সচেতন ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হবে জাতীয় স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা এবং সমাজকে জবাবদিহিতায় আনা, কোনো বিশেষ ব্যক্তির গুণগান গাওয়া নয়।
















