ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি সফর করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান জহির আহমেদ বাবর সিধু ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই সফরের পর থেকেই পাকিস্তানের জেএফ সেভেন্টিন যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা সামনে আসে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানায়, বিমান কেনার বিষয়টি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেন, কোন দেশের প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত হবে তা যাচাই করা হচ্ছে। পাকিস্তান সফর সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ারই অংশ। এর আগে বিমান বাহিনীর প্রধান চীন ও ইতালি সফর করেছেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির পথে। ১৯৭১ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ঢাকা থেকে করাচিতে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর কথাও রয়েছে, যা এক দশকের বেশি সময় বন্ধ ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ডেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বাস্তববাদী নীতিতে এগোচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন মানেই কোনো নির্দিষ্ট জোটে যুক্ত হওয়া নয়। বাংলাদেশ বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তিনি বলেন, সামরিক সহযোগিতার চেয়ে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র ঢাকা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সামরিক সম্পর্ক কতদূর যাবে তা নির্ধারণে আরও সময় প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন যুদ্ধবিমান না কেনায় বাংলাদেশ উন্নত বিমান প্রয়োজন অনুভব করছে। আগে চীনের তৈরি এফ সেভেন ব্যবহার করা হতো, তবে সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পাকিস্তান একটি সম্ভাব্য উৎস হতে পারে, তবে এর সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিষয় জড়িত। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
পাকিস্তানের জেএফ সেভেন্টিন যুদ্ধবিমান চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের আকাশযুদ্ধের ঘটনায় এই বিমানের কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। পাকিস্তান দাবি করেছে, ওই সংঘর্ষে তারা কয়েকটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যা পরে ভারতও আংশিকভাবে স্বীকার করে।
ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব যেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষতি না করে। সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
















