জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানসহ মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আজ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দাখিল করা হলো।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রধান আসামি: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং তাঁর ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন (অয়ন ওসমান)।
- অপরাধের প্রকৃতি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও ছাত্র-জনতাকে হত্যার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন।
- তদন্ত প্রতিবেদন: ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্পটে সরেজমিনে তদন্ত করে এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এই ১২ জনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে।
- গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে বাকি ১০ জন আসামির নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করেনি প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটর আরও জানান, জুলাই-আগস্টে নারায়ণগঞ্জে নিহতের সংখ্যা দেশের অন্য অনেক এলাকার তুলনায় বেশি ছিল এবং সেখানে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ প্রসিকিউশনের হাতে রয়েছে। এই ফরমাল চার্জের ওপর ভিত্তি করেই ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম ও বিচার শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
















