রাজনৈতিক প্রতিরোধে যুক্তদের মামলা প্রত্যাহার, তবে ব্যক্তিগত সহিংসতায় ছাড় নয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রতিরোধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ফৌজদারি দায়মুক্তি দিতে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাদেশটির বিস্তারিত তুলে ধরেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের পর দায়মুক্তির নজির রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদেও এ ধরনের আইন প্রণয়নের সুযোগ আছে। তাঁর ভাষায়, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডের কারণে দায়ের হওয়া সব ফৌজদারি মামলা সরকার প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে ওই সময়কালের রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য নতুন করে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।
তবে আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে ব্যক্তিগত, সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যা বা সহিংসতার ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না। লোভ, প্রতিশোধ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধ হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং সেসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল নাকি ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত—তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-কে। ভুক্তভোগীর পরিবার চাইলে কমিশনে আবেদন করতে পারবে। কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের মতোই গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানান আসিফ নজরুল।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। তিনি বলেন, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নতুন মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর কমিশন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা প্রায় ২০ হাজার মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—উভয় পক্ষেই কথা বলার অধিকার সবার রয়েছে। কেউ যদি পুরোনো ব্যবস্থাই বহাল রাখতে চান, তবে তিনি ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার করতেই পারেন। কাউকে মতপ্রকাশ থেকে বিরত রাখার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
















