যুক্তরাষ্ট্রের একটি শিশু অধিকার সংগঠন অভিযোগ করেছে, গুগল শিশুদের ১৩ বছর পূর্ণ হলে তাদের অ্যাকাউন্টে অভিভাবকীয় নজরদারি বন্ধ করার সুযোগ দিয়ে অভিভাবকদের কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। এ অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ডিজিটাল চাইল্ডহুড ইনস্টিটিউটের সভাপতি মেলিসা ম্যাকেকে জানান, গুগল তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলেকে একটি ইমেইল পাঠিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৩ বছরে পা দিলেই নতুন কিছু সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে। ম্যাকের দাবি, এতে কার্যত অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়াই শিশুদের জন্য নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হচ্ছে।
গুগলের নীতিমালা অনুযায়ী, অনেক দেশে ১৩ বছর বয়সে পৌঁছালে শিশু ব্যবহারকারীরা অভিভাবকদের তত্ত্বাবধান বন্ধ করতে পারে। এতে ইউটিউবে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, গুগল পেতে পেমেন্ট পদ্ধতি যোগ করা, অ্যাপ ব্লক করা বা লোকেশন শেয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে অভিভাবকদের আর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
মেলিসা ম্যাকে বলেন, এটি এমন এক সীমারেখা, যেখানে গুগলের হস্তক্ষেপ করার কথা নয়। তাঁর ভাষায়, এতে অভিভাবকদের সাময়িক বাধা হিসেবে দেখানো হচ্ছে এবং করপোরেট প্ল্যাটফর্মকে অভিভাবকের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে।
বর্তমানে ফ্যামিলি লিংক নামের একটি সেবার মাধ্যমে ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত অভিভাবকেরা শিশুদের গুগল অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। তবে ম্যাকের অভিযোগ, এই বয়সসীমা শিশুর মানসিক ও সামাজিক পরিপক্বতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বিষয়টি প্রথম উত্থাপন করেন গত অক্টোবর মাসে, যখন ফেডারেল ট্রেড কমিশনে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়, এই ব্যবস্থা শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের শামিল। অভিযোগপত্রে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন এবং ইন-অ্যাপ কেনাকাটা সংক্রান্ত আগের একটি সমঝোতা লঙ্ঘনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
অন্যান্য অভিভাবক অধিকারকর্মীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, ১৩ বছর বয়সে শিশুদের নিজে থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হলে অভিভাবকদের ভূমিকা খাটো করে দেখা হয় এবং এতে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ে।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে শিশু ও কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এর আগেও উঠেছে। বিভিন্ন মামলায় গুগলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ ও কিশোরদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন নীতির অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় অভিভাবকীয় নজরদারি স্বাভাবিক ব্যবস্থা হিসেবে থাকা উচিত, কোনো বয়সসীমা পার হলেই তা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
















