আর্থিক সংকটের কারণে বাংলাদেশের প্রথম ক্যাথলিক গির্জার স্থান পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ থমকে গেছে। দক্ষিণের সাতক্ষীরা জেলার ঈশ্বরীপুরে অবস্থিত প্রায় ৪২৬ বছর পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বর্তমানে দখল অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো সংরক্ষণ কাজও হয়নি।
বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন ঈশ্বরীপুর এলাকায় ১৬০০ সালের ১ জানুয়ারি পর্তুগিজ জেসুইট পুরোহিত ফাদার ফ্রান্সিসকো ফার্নান্দেজ ও ফাদার ডোমিঙ্গো দে সুসা বাংলাদেশের প্রথম গির্জা নির্মাণ করেন। ‘চার্চ অব দ্য হোলি নেম অব জেসাস’ নামের এই গির্জাটি তৎকালীন রাজা প্রতাপাদিত্যের অনুমতি ও অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। সে সময় রাজা প্রতাপাদিত্যের অধীনে কর্মরত বহু পর্তুগিজ সৈন্য এখানে উপাসনা করতেন।
বর্তমানে ওই গির্জার কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। সেখানে এখন একটি বাগান রয়েছে এবং একটি মুসলিম পরিবার ওই জমিতে বসবাস করছে। তবে জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে এখনো গির্জাটির ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, পর্তুগিজ সৈন্যদের অনুদান ও রাজা প্রতাপাদিত্যের সহায়তায় ১৫৯৯ সালের ডিসেম্বরেই গির্জাটির নির্মাণ শেষ হয়েছিল।
খুলনা ডায়োসিসের ওই এলাকার জমির দায়িত্বে থাকা ফাদার ফিলিপ মন্ডল জানান, আগে একসময় গির্জার পক্ষ থেকে জমিটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন বিশপ জমির জন্য অর্থ দিতে চাইলেও সেখানে বসবাসকারীরা রাজি হননি। এরপর বিষয়টি আর এগোয়নি।
ফাদার মন্ডল বলেন, বর্তমানে প্রশাসনিক সহায়তা ও বিপুল অর্থ ছাড়া এই জমি উদ্ধার করা সম্ভব নয়, যা খুলনা ডায়োসিসের পক্ষে জোগাড় করা কঠিন। তবে সরকারের সহযোগিতা ও বাইরের অর্থ সহায়তা পেলে ঐতিহাসিক এই স্থান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে খ্রিস্টানদের সংখ্যা এক শতাংশেরও কম। ক্যাথলিক সম্প্রদায়ই খ্রিস্টানদের মধ্যে সবচেয়ে বড়, যার সদস্য সংখ্যা আনুমানিক চার লাখ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে খ্রিস্টানদের ভূমিকার কারণে তারা সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছেও সম্মানিত।
ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের অনেকে অন্তত একটি ছোট উপাসনালয় বা স্মৃতিচিহ্ন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দেশের প্রথম গির্জার ইতিহাস এভাবে হারিয়ে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জায়গাটিতে প্রথম গির্জা ছিল—এ তথ্য সত্য। তবে বর্তমানে বসবাসকারীরা কীভাবে জমিটির মালিকানা পেয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চার্চের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
















