ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে নিয়মিত ও বহুমুখী যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি নিজেও তাঁর সমমর্যাদার কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার সরাসরি কথা বলেন। তাঁর ভাষায়, উদ্দেশ্য একটাই—পরিস্থিতি পরিষ্কার রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়িয়ে চলা।
সেনাপ্রধান বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, নৌ ও বিমান বাহিনীও তাদের সমকক্ষ বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের সব চ্যানেল খোলা রেখেছে। তিন বাহিনীর মধ্যেই সমন্বিতভাবে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ঢাকায় কী ধরনের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং সেই সরকার কতদিন দায়িত্বে থাকবে, তার ওপর ভারতের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার হলে তাদের সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদি নাকি দীর্ঘমেয়াদি—তা বোঝা জরুরি। পরিস্থিতি অনুযায়ী তাত্ক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না, সেটিও সে অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলার খবরের প্রসঙ্গ তুলে সেনাপ্রধান জানান, পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য ভারত ইতিমধ্যেই একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। ওই দল সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছে। পাশাপাশি নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরাও তাঁদের বাংলাদেশি সমকক্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, এসব যোগাযোগের মূল লক্ষ্য হলো একে অপরের অবস্থান পরিষ্কারভাবে বোঝা এবং কোনো ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ না রাখা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নেওয়া কোনো পদক্ষেপই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, সক্ষমতা বাড়ানো সব দেশের জন্যই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে ভারত পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
















