বড়পোলে মোটরসাইকেল চালককে ছুরিকাঘাত; হাটহাজারীতে জুয়া নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল আরও একজনের
চট্টগ্রামে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই চালককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রোববার (১২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নগরীর বন্দর ও হাটহাজারী এলাকায় পৃথক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবার মোটরসাইকেল চালক এবং অন্যজন মাইক্রোবাস চালক। বড়পোলে ছুরিকাঘাতের পর রক্তাক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল চালিয়ে কিছু দূর গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন চালক আইজুর রহমান। অন্যদিকে, হাটহাজারীতে জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে মাইক্রোবাস চালক মাহবুব আলমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বন্দরনগরীতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ দুই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান শুরু করেছে।
রক্তাক্ত অবস্থায় চালকের শেষ আকুতি
বন্দর থানা পুলিশ জানায়, রাত ১২টার দিকে হালিশহর বড়পোল এলাকায় রাইড শেয়ারিং চালক আইজুর রহমানকে (৩৬) লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা।
- শেষ লড়াই: বুক ও পাঁজরে জখম নিয়ে আইজুর অসীম সাহসিকতায় মোটরসাইকেল চালিয়ে বন্দর পোর্ট কলোনি এলাকা পর্যন্ত পৌঁছান। সেখানে টহল পুলিশের সামনে লুটিয়ে পড়ার আগে তিনি জানান যে, বড়পোল এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।
- পরিচয়: নিহত আইজুর রহমানের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তিনি সস্ত্রীক নগরীর দক্ষিণ পোল এলাকায় ভাড়া থাকতেন। বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের ধরার চেষ্টা চলছে।
হাটহাজারীতে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধ
এদিকে ভোর ৪টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার কলাবাগান এলাকায় একটি ভবনের আঙিনায় মাইক্রোবাস চালক মাহবুব আলমকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১. হত্যার কারণ: হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে জুয়া খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২. বিক্ষোভ: এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ মাইক্রোবাস চালকরা চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
পৃথক দুই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ ধারণা করছে, ছিনতাই বা ব্যক্তিগত শত্রুতা উভয় দিকই আইজুর হত্যাকাণ্ডের কারণ হতে পারে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।
















