বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারত ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ সূত্র। তবে এ বিষয়ে কোনো সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্ন নেই এবং পুরো বিষয়টি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছে ভারতীয় সেনা।
ভারতীয় সেনা সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবি ও তথ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগ বা সম্পৃক্ততা নেই। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের মৌলিক সম্পর্ক এখনো দৃঢ় রয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার ফলাফলের দিকেই নজর রাখছে নয়াদিল্লি। পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। সব ধরনের অগ্রগতি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে Ministry of External Affairs।
ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা জানান, যদি কখনো যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে বর্তমান বাস্তবতায় এমন কোনো পরিস্থিতি নেই এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
এদিকে ‘অপারেশন সিনদুর’ ঘিরে করাচি ও লাহোর দখলের মতো কিছু গুজব স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে প্রতিরক্ষা সূত্র। এসব দাবি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করে জানানো হয়, সশস্ত্র বাহিনী কেবল যাচাই করা তথ্যই আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং ও স্বীকৃত গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
প্রতিরক্ষা সূত্র আরও জানায়, প্রতিটি গুজব বা দাবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো সরকারের নীতি নয়। যা অর্জিত হয়েছে, তা স্বীকৃত এবং বড় ধরনের সামরিক অভিযান সবসময় সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমেই পরিচালিত হয়।
পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগের কথাও স্বীকার করেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা। তবে একই সঙ্গে তারা বলেন, পারস্পরিক সম্পর্ক যতদিন সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকবে, ভারত ততদিন প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে Bangladesh Army–এর সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ভারতীয় সেনা সূত্রের ভাষায়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাই ভারতের নীতির মূল ভিত্তি, এবং সেই লক্ষ্যেই India ও Bangladesh–এর সম্পর্ক পরিচালিত হচ্ছে।
















