তুলা ও সুতা আমদানিতে ১০–২০ শতাংশ শুল্ক বিবেচনায়, দিল্লির বাজারে প্রভাবের শঙ্কা
ভারত থেকে আমদানিকৃত তুলা ও সুতার ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার; প্রস্তাবিত শুল্কহার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ভারতের পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করা তুলা ও সুতা নিয়ে নতুন শুল্ক বসানোর বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক বৈঠকে ভারতীয় তুলা ও সুতা আমদানির বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ভারতীয় সুতা রপ্তানিকারকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার আমদানিকৃত সুতার ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভারতের তুলা ও বস্ত্র খাতে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক বাংলাদেশ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক আরোপ করা হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার চাহিদা কমতে পারে, যা দেশটির তুলা উৎপাদক ও সুতা কারখানাগুলোকে আর্থিক চাপে ফেলবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্কহার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। নয়াদিল্লিভিত্তিক বিশ্লেষক রাহুল চৌহান সতর্ক করে বলেন, এমন সিদ্ধান্ত ভারতের বাজারে তুলার দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা থাকায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের ২০২৫ সালের মে মাসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপে বাংলাদেশের প্রায় ৪৭ কোটি ডলার মূল্যের রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যা ভারতের বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে গত বছর ভারত প্রায় ৩.৫৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সুতা রপ্তানি করেছে, যার বড় অংশ গেছে বাংলাদেশে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয়। সম্প্রতি ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
















