ওয়াশিংটন, ১০ জানুয়ারি: গাজায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে বাংলাদেশ। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের সরকার।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক অ্যালিসন হুকার ও পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি গাজায় গঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
তবে এই বাহিনীতে বাংলাদেশ কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বা কতটা সম্পৃক্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে গাজায় একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বাহিনী একটি বোর্ড অব পিস এবং সহযোগী দেশগুলোর মাধ্যমে গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করার কথা রয়েছে। অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে যুদ্ধবিরতি এখনো প্রথম ধাপের বাইরে এগোয়নি এবং পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চার শতাধিক ফিলিস্তিনি এবং তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে গাজার ২০ লাখের বেশি মানুষ অস্থায়ী ঘরবাড়ি কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে। এসব এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে গেলেও সেখানে হামাস আবারও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
পরবর্তী ধাপের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের অবস্থান এখনো অনেক দূরে রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, ভয়াবহ খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো গাজার জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং জাতিসংঘের একটি তদন্ত সংস্থা এই পরিস্থিতিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে। ওই হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের এই আগ্রহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির শান্তিরক্ষা ও কূটনৈতিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
















