নাটোরে সিংড়া উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও বিএনপি নেতা রায়হান কবিরের পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনায় যুবদল নেতাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নির্বাচনি বিরোধের জেরে এই নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
নাটোরের সিংড়ায় নির্বাচনি বিরোধের জেরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীর এক সমর্থকের পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী রায়হান কবির (৪৫) উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এই নৃশংস হামলার ঘটনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক ও যুবদল নেতাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সিংড়া থানায় মামলাটি করেন খোদ ভুক্তভোগী রায়হান কবির।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিজলি গ্রামের মৃত অফিজ উদ্দিনের ছেলে রায়হান কবির আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদের একজন সক্রিয় সমর্থক। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে দাউদার মাহমুদের সঙ্গে নির্বাচনি আলোচনা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বিলতাজপুর এলাকায় পৌঁছালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনুর সমর্থক ও ইটালী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সোহানুর রহমান সোহানসহ একদল কর্মী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে রায়হান কবিরের দুই পায়ের রগ কেটে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
আহত রায়হান কবিরকে উদ্ধার করে প্রথমে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। ভুক্তভোগীর ছেলে মেহেদী হাসান বলেন, “বাবার অবস্থা খুবই খারাপ। দুই পায়ের রগ কেটে যাওয়ায় রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছে না। আমরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।” সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার শিবলী নোমান নিশ্চিত করেছেন যে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রায়হান কবিরের পায়ের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
হামলার শিকার রায়হান কবির হাসপাতালের বেডে শুয়ে অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনুর কর্মী রমজান আলী ও সোহানুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে রহিদুল, আউয়াল, মিঠু, ফরহাদসহ বেশ কয়েকজন এই হামলায় অংশ নিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সোহানুর রহমান সোহান এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্বে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে এই মামলায় জড়ানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিগত ১৭ বছর বিএনপি করার অপরাধে আওয়ামী লীগের হাতে নির্যাতিত হওয়া রায়হান আজ নিজ দলের কর্মীদের হাতেই হত্যার চেষ্টার শিকার হলেন।” অন্যদিকে, নাটোর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, “অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর জানিয়েছেন, ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
















