বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংস ঘটনার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। যশোরে এক হিন্দু ব্যবসায়ী ও পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গুলি করে হত্যার পাশাপাশি আলাদা ঘটনায় এক হিন্দু বিধবা নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার অড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা রানা প্রতাপ বৈরাগী সোমবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। তার বয়স ছিল ৩৮ বছর। তিনি মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে একটি বরফ কারখানার মালিক ছিলেন এবং নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার বিকেল প্রায় পৌনে ছয়টার দিকে মোটরসাইকেলে আসা তিনজন ব্যক্তি কৌশলে বৈরাগীকে তার কারখানা থেকে ডেকে একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়। মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজিউল্লাহ খান জানান, তাকে মাথায় তিনটি গুলি করা হয় এবং গলা কেটে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধের সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক থাকতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, বৈরাগীর বিরুদ্ধে আগে চারটি মামলা ছিল এবং তিনি ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর একের পর এক সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। জানুয়ারির তিন তারিখে খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যা, গত ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা এবং ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় আলাদা এক ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক হিন্দু বিধবা নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ব্যক্তি ওই নারীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে এবং জোরপূর্বক তার চুল কেটে দেয়। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করেছে এবং তদন্ত চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোপন হামলা ও গণপিটুনিসহ এ ধরনের সহিংসতা দেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বাড়তে থাকা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশের ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৩১ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
















