যানজটের সুযোগে সক্রিয় অপরাধী চক্র; হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জ অংশে ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবাসীদের গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাক এখন ডাকাতদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে বা গভীর রাতে নির্জন স্থানে এই চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে ডিবি পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে গাড়ি থামিয়ে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাইওয়ে থানা ও ফাঁড়ি থাকলেও অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অপরাধীরা অত্যন্ত সুসংগঠিত। গত ডিসেম্বর মাসে গজারিয়ায় বাসে হানা দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশি পোশাক ব্যবহারের বিষয়টি জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রবাসীর গাড়ি ও পণ্যবাহী যানে ‘টার্গেট’
ডাকাত দলগুলো বিমানবন্দর থেকে ফেরা প্রবাসীদের গাড়ি অনুসরণ করে নির্জন স্থানে আক্রমণ করে। এছাড়া কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী ট্রাক থামিয়ে চালকদের জিম্মি করে মালামাল লুটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশের টহল দল নির্দিষ্ট কিছু স্থানে অবস্থান করায় অপরাধীরা ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধ ঘটিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশি পোশাকে ডাকাতি: গজারিয়ার সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা
গত ৭ ডিসেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়ায় দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৪৫ ভরি স্বর্ণ লুটের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত।
- কৌশল: পুলিশের পোশাক পরা একটি দল মাদক মামলার অজুহাতে বাস থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরায়।
- অপহরণ: চোখ বেঁধে মাইক্রোবাসে তুলে মারধর করে স্বর্ণ, টাকা ও এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে তাদের গাজীপুরের কালীগঞ্জে ফেলে রাখা হয়।
- উদ্ধার: পরবর্তীতে জেলা পুলিশের অভিযানে ৯৪ ভরি স্বর্ণসহ অপরাধীদের আটক করা সম্ভব হয়।
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানিয়েছেন, “ডাকাতির ইতিহাস আছে এমন ব্যক্তিদের তালিকা করে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ কামাল আকন্দ জানান, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে টহল বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে গত পাঁচ বছরের অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আইনগত জটিলতা ও জামিন আতঙ্ক
তদন্তে দেখা গেছে, অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ঝামেলা এড়াতে মামলা করতে চান না। আবার পুলিশও অনেক বড় ঘটনাকে স্রেফ ‘ছিনতাই’ বা ‘জিডি’ হিসেবে নথিবদ্ধ করে দায় এড়াতে চায়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডাকাত দলের সদস্যরা গ্রেফতার হওয়ার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
















