২০২৬ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার সঠিক ইতিহাস।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ এখন মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমের অংশ। নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলোতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়ন, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে ১৯৭১ সালে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রকৃত ইতিহাস।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রকাশিত নতুন বইগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাস, বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে শিক্ষার্থীদের বয়স অনুযায়ী এই ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো সাজানো হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার বিবরণ ও ছবি পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে। একই বইয়ে ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের দুই হাত প্রসারিত করা সেই ঐতিহাসিক ছবি এবং শহীদ নূর হোসেনের ছবি সংবলিত ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক নতুন পরিচ্ছেদ স্থান পেয়েছে।

সপ্তম শ্রেণির বাংলা বই ‘সপ্তবর্ণা’-তে যুক্ত হয়েছে হাসান রোবায়েতের কবিতা ‘সিঁথি’, যেখানে জুলাই আন্দোলনের রক্তপাত ও মুক্তির প্রত্যয় ফুটে উঠেছে। অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ১৯৬৯, ১৯৯০ এবং ২০২৪—এই তিনটি বড় গণঅভ্যুত্থানের তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল শিক্ষার্থীরা এবং সহস্রাধিক জীবনের বিনিময়ে এই বিপ্লব সফল হয়। নবম-দশম শ্রেণির ইংরেজি বই ‘English For Today’-তে ‘Graffiti’ শিরোনামের একটি অধ্যায়ে আন্দোলনের সময় দেয়ালচিত্রের ভূমিকা এবং শহীদ আবু সাঈদের মায়ের আর্তনাদ ‘হামার বেটাক মারলু কেনে?’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিক্ষাক্রমে এই পরিবর্তনের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলের মিথ্যা প্রচারণার সুযোগ রাখবে না। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৮৫ শতাংশ বই ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে এবং আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সব শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পাবে। এছাড়া এনসিটিবির ওয়েবসাইটে সব বইয়ের অনলাইন সংস্করণও আপলোড করা হয়েছে।
















