বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দুই দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ড. ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানান এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ মব লিঞ্চিং নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হায়দ্রাবাদের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের—বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের—নিরাপত্তার স্বার্থেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. ওয়াইসি এসব কথা বলেন।
‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মনে করেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরাসরি ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে।
তিনি বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হয়েছে।”
ভবিষ্যৎ সম্পর্কের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, ফেব্রুয়ারিতে সেদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক চিরতরে উন্নত হবে।”
তবে সীমান্তে ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ শক্তির উপস্থিতি নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন। তার কথায়, “পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) কিংবা চীনের মতো ভারতের শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো এখন বাংলাদেশে রয়েছে, এটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।”
সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও ড. ইউনূসের প্রতি বার্তা
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মি. ওয়াইসি। বিশেষ করে দিপু চন্দ্র দাস এবং অমৃত মণ্ডলের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের নিজস্ব সাংবিধানিক আদেশের পরিপন্থী।
তিনি বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র তৈরি হয়েছিল। সেখানে প্রায় ২ কোটি অ-মুসলিম সংখ্যালঘু বাস করেন। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিশ্চিত করবেন যে বাংলাদেশে বসবাসকারী সমস্ত সংখ্যালঘুর সুরক্ষা যেন বজায় থাকে।”
ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে যে পদক্ষেপ নেবে, তাতে নিজের সমর্থনও জানিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান।
ভারতের অভ্যন্তরীণ ‘মব লিঞ্চিং’ নিয়েও সরব
কেবল প্রতিবেশী দেশ নয়, ভারতের অভ্যন্তরে ঘটা একাধিক পিটিয়ে হত্যার ঘটনা (মব লিঞ্চিং) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি অভিযোগ করেন, আইনের শাসন ভেঙে পড়লে সংখ্যাগরিষ্ঠের রাজনীতি সবকিছুকে ছাপিয়ে যায়।
তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন:
- গত ২৪ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে পশ্চিমবঙ্গের এক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা।
- কেরালাতে উত্তরপ্রদেশের এক পরিযায়ী শ্রমিককে হত্যা।
- উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ত্রিপুরার এক এমবিএ শিক্ষার্থীর মৃত্যু।
মি. ওয়াইসি বলেন, “এসব ঘটনা প্রমাণ করে কীভাবে আইনের শাসন ভেঙে পড়ে। আর তখনই এই মব লিঞ্চিং-এর ঘটনা ঘটে, যার নিন্দা আমাদের করতেই হবে।”
















