ভোটের আগে অস্ত্র ফেরত নয়, তবে চূড়ান্ত প্রার্থীদের জন্য বিশেষ লাইসেন্সের সুযোগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সাময়িকভাবে জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে সারা দেশে যেসব নাগরিকের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অস্ত্র আর ফেরত দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিস্তারিত নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তবে নির্বাচনী প্রচারণাকালে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ ও জাতীয় সংসদের চূড়ান্ত প্রার্থীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স বা গানম্যান নিয়োগের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ ডিসেম্বর ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা–২০২৫’ জারি করা হয়। নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর সারা দেশ থেকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান চেয়ে আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছে।
সাধারণত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। পিস্তল ও রিভলবারের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তবে অন্যান্য ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন অনেক সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৫–১৬ জন রাজনীতিবিদ ও ২০ জনের বেশি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্স বা গানম্যানের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে বিএনপি ও অন্যান্য দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশে প্রায় ১৭ হাজার ২০০টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগও উঠে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সরকারের আমলে দেওয়া সব অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। সে সময় নির্ধারিত মেয়াদে ১৩ হাজার ৩৪০টি অস্ত্র জমা পড়লেও প্রায় ৩ হাজার ৮৬০টি অস্ত্র জমা পড়েনি, যা বর্তমানে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় তিন হাজার অস্ত্র ফেরত দেওয়া হলেও জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নতুন করে আবার সব অস্ত্র জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এমনকি যাঁরা আগে অস্ত্র ফেরত পেয়েছিলেন, তাঁদেরও পুনরায় অস্ত্র জমা দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের পরই কেবল অস্ত্রের লাইসেন্স সংক্রান্ত আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে।
















