ছত্তিশগড়, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশে ভয়ভীতি ও ভাঙচুরের অভিযোগ
ভারতের একাধিক রাজ্যে বড়দিনের অনুষ্ঠান ও সাজসজ্জাকে ঘিরে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিনের অনুষ্ঠান ঘিরে সহিংসতা ও হয়রানির ঘটনা সামনে এসেছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও কেরালাসহ একাধিক স্থানে বড়দিনের সাজসজ্জা, প্রার্থনা সভা ও ক্যারল মিছিলে হামলা, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুর-এর একটি শপিং মলে বড়দিনের সাজসজ্জা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি বড় দল জোরপূর্বক মলের ভেতরে প্রবেশ করে হুমকি দেয় এবং সহিংস আচরণ করে। দীর্ঘদিন কাজের অভিজ্ঞতায় এমন ঘটনার মুখোমুখি হননি বলে জানিয়েছেন মলের কর্মীরা।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ প্রকাশ্যে হিন্দুদের বড়দিন উদযাপন থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছে এবং এটিকে সংস্কৃতির জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কেরালায় ২১ ডিসেম্বর বড়দিনের ক্যারল মিছিলে অংশ নেওয়া শিশুদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি শিশুদের বাদ্যযন্ত্র ভেঙে দেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনে মামলা করে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের ‘মদ্যপ অপরাধী চক্র’ আখ্যা দিয়ে বিতর্কে জড়ান ভারতীয় জনতা পার্টি-র কেরালা রাজ্যের এক নেতা; এতে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।
মধ্যপ্রদেশে একটি প্রার্থনা সভায় অংশ নেওয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে বিভিন্ন শহরে বড়দিনের সামগ্রী বিক্রি করা হকারদের ভয় দেখানো ও হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। দিল্লির লাজপত নগরে সান্তা ক্লজের টুপি পরা নারী ও শিশুদের মৌখিকভাবে হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থি এ ধরনের হামলা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো স্কুল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করতে চাপ দিচ্ছে এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকার কঠোর থাকবে।
এদিকে ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া বড়দিনের মৌসুমে খ্রিস্টানদের ওপর ধারাবাহিক হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
















