যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। আন্দোলনকারী সংগঠন ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ এই তথ্য জানিয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার লন্ডনের স্কয়ার মাইল আর্থিক এলাকার অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্সের কার্যালয়ের সামনে ‘প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন’ শীর্ষক বিক্ষোভে অংশ নিতে এসে থুনবার্গকে আটক করা হয়। অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্স ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ঠিকাদার এলবিট সিস্টেমসকে বীমা সেবা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ জানায়, বিক্ষোভ শুরুর পর থুনবার্গ সেখানে উপস্থিত হন। সংগঠনটি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি প্ল্যাকার্ড হাতে ধরে আছেন, যেখানে লেখা ছিল, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন বন্দিদের সমর্থন করি, আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি। এর আগে থুনবার্গ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে গণহত্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অবরোধ ভাঙতে দুটি ফ্লোটিলা অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
সিটি অব লন্ডন পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ২২ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁর পরিচয় থুনবার্গের সঙ্গে মেলে। পুলিশ জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগে সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০-এর ১৩ ধারায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংগঠনটি হলো প্যালেস্টাইন অ্যাকশন, যাকে যুক্তরাজ্য সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এই বিক্ষোভটি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রতি সংহতি জানাতে আয়োজন করা হয়। বর্তমানে ওই সংগঠনের পাঁচজন কর্মী ব্রিটিশ কারাগারে অনশন করছেন।
ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ জানায়, অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্সের কথিত গণহত্যায় জড়িত থাকার ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বন্দিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরও এক পুরুষ ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কাছাকাছি একটি ভবনে হাতুড়ি ও লাল রঙ ব্যবহার করে ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে। ভবনটি ফেনচার্চ স্ট্রিটে অবস্থিত, যেখানে অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্সের কার্যালয় রয়েছে।
ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, দুই কর্মী প্রতীকী রক্তলাল রঙ স্প্রে করে ভবনের সামনের অংশ ঢেকে দেন এবং ভবনের সামনে নিজেদের আটকে রাখেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্সের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দৃষ্টি আকর্ষণ করা, ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং ভবনটি বন্ধের দাবি তোলা।
সংগঠনটি দাবি করে, অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্সকে লক্ষ্য করা হয়েছে কারণ প্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্য শাখা ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমসের সঙ্গে যুক্ত। এলবিট তাদের ড্রোনকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।
এর আগে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের কর্মীরা যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে এলবিট সিস্টেমসের একটি কারখানায় বিক্ষোভ চালিয়েছিল। সংগঠনটির অনশনরত কর্মীদের অন্যতম দাবি হলো, যুক্তরাজ্যে এলবিটের সব কারখানা বন্ধ করা।
ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ অভিযোগ করেছে, যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি অনশনরতদের আইনজীবী বা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে থুনবার্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনশনরতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে লিখেছিলেন, এই যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো মানা হলে গণহত্যা ঠেকাতে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করা মানুষদের মুক্তির পথ তৈরি হবে, যা করতে ব্রিটিশ রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের এক মুখপাত্র বলেন, থুনবার্গের গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। পুলিশ নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যায় আবারও ভুল করেছে নাকি বন্দিদের প্রতি সমর্থন জানানো মানুষদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
















