বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ভিসা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র। সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নিল ঢাকা। ওই কেন্দ্রগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটে গত ১২ ডিসেম্বর গুলিতে নিহত কট্টরপন্থী নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, যখন একদল লোক দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রধান ফটকে এসে স্লোগান দেয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা মিশনের ভেতরে থাকা কূটনীতিকদের উদ্দেশে হুমকিও ছুড়ে দেয়। বিষয়টি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা ‘ভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলে আখ্যা দেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাইকমিশনের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৫ মাসে দুই দেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে। তবে এই প্রথম নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সরাসরি ভিসা সেবা স্থগিত করল।
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন চরমে ওঠার সময় প্রথমবারের মতো ঢাকায় ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা ভিসা সেবা স্থগিত থাকলেও চলতি বছরের নভেম্বর নাগাদ প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশিকে ভারতীয় ভিসা দেওয়া হচ্ছিল বলে কর্মকর্তারা জানান।
তবে সর্বশেষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে হাদির মৃত্যুর পর। ওই সময় খুলনা ও চট্টগ্রামের কেন্দ্র এবং রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে গুজব ছড়ায়, হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা ভারতে পালিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, হত্যাকারীদের অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন ঘোষণা দেয়, অনিবার্য কারণ দেখিয়ে মঙ্গলবার থেকে সেখানে সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ থাকবে। রোববার ওই মিশনের বাইরে একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এটি বন্ধের দাবি জানান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও সেখানে বিক্ষোভকারীরা মিশনে ঢুকে পড়েছিল, যখন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শুরুর দিনগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল।
















