অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীদের রেকর্ড সাড়া: ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৬ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সাড়া মিলেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ১ হাজার ৩৬৯ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এই আধুনিক ভোটিং পদ্ধতি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
অ্যাপের মাধ্যমে সহজ নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস হিসেবে পরিচিত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করছেন। সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ প্রায় ১৫০টি দেশ থেকে বাংলাদেশিরা এই অ্যাপ ব্যবহার করে নিবন্ধন করছেন। বর্তমানে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৮ জন এবং নারী ৩৬ হাজার ৪৫৯ জন।
যেভাবে কাজ করবে পোস্টাল ভোট ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করা ভোটারদের দেওয়া ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্ধারিত ফিরতি খামে ব্যালট পেপারটি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যারা নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে রয়েছেন— বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই পদ্ধতিতে নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। ইসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশের অভ্যন্তরে থাকা ভোটারদের সুবিধার্থে নিবন্ধনের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।
নির্বাচন ও গণভোটের ক্ষণগণনা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশের শাসনতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
















