দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের গৃহবন্দি হয়ে বাকি সাজা ভোগের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির আদালত। কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট রায়ে জানিয়েছে, নাজিবকে কারাগারের বদলে বাড়িতে সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়ার যে রাজকীয় নথির কথা বলা হচ্ছিল, তা আইনগতভাবে কার্যকর নয়।
সোমবার দেওয়া এই রায়ের ফলে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি থাকা নাজিবের জন্য আরেকটি আইনি ধাক্কা এল। তিনি বহুল আলোচিত ওয়ান এমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কাজাং কারাগারে রয়েছেন।
নাজিবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, সাবেক রাজা প্রদত্ত এক আদেশের মাধ্যমে তিনি গৃহবন্দি হয়ে সাজা ভোগের অধিকার পান। তবে হাইকোর্টের বিচারক অ্যালিস লোক বলেন, ওই আদেশের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও, রাজা এককভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য দেশের পারডন বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক ছিল।
রায়ে বলা হয়, মালয়েশিয়ার আইনে গৃহবন্দির কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই এবং পারডন বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া এমন আদেশ কার্যকর করা সম্ভব নয়। আদালতের এ সিদ্ধান্তের সময় নাজিবকে আবেগপ্রবণ দেখা না গেলেও, রায় ঘোষণার পর তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য শুনে তাঁকে মুচকি হাসতে দেখা যায়।
নাজিবের আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ রায়টিকে ‘বিস্ময়কর’ আখ্যা দিয়ে জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। নাজিব বরাবরের মতোই নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং দাবি করছেন, কেলেঙ্কারির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী লো তায়ক জো তাঁকে প্রতারণা করেছেন। লো বর্তমানে পলাতক।
এদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে, এতে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে পারডন বোর্ড নাজিবের ১২ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ছয় বছর নির্ধারণ করে এবং জরিমানার অঙ্কও কমানো হয়। সেই হিসাবে ২০২৮ সালের আগস্টে তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা।
এ ছাড়া চলতি সপ্তাহেই ওয়ান এমডিবি সংক্রান্ত আরেকটি দুর্নীতি মামলায় নাজিব দোষী সাব্যস্ত হন কি না, সে বিষয়ে আদালতের রায় আসার কথা রয়েছে। ওই মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের একাধিক অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর আরও দীর্ঘ কারাদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।
২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নাজিব ওয়ান এমডিবি তহবিল গঠন করেন। তদন্তকারীদের মতে, এই তহবিল থেকে বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়, যা দিয়ে বিলাসবহুল সম্পদ ও হলিউড চলচ্চিত্রে অর্থ ব্যয় করা হয়। এই কেলেঙ্কারিই ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এনে দেয় এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলকে নির্বাচনে পরাজিত করে।
দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও নাজিব এখনো তাঁর দল ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের ভেতরে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত, যে দলটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ।
















