প্রথমবার টাইগার কম্পিটিশনে বাংলাদেশ, মূল তিন বিভাগে জায়গা পেল তিন ছবি
রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ নির্বাচিত হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসবের তিনটি ভিন্ন বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা।
বিশ্বখ্যাত রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFR) এবার এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল বাংলাদেশ। উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ নির্বাচিত হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রইদ’। রটারড্যাম উৎসবের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই মর্যাদাপূর্ণ বিভাগে জায়গা পেল।
সুনামগঞ্জে চিত্রায়িত ‘রইদ’ সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। ছবিটি মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম অনুভূতিকে শিল্পিত ভাষায় তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘মাস্টার’ নির্বাচিত হয়েছে উৎসবের ‘বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশন’ বিভাগে। ১২২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই ছবিতে একজন আদর্শবান শিক্ষকের উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর ক্ষমতার রাজনীতিতে বদলে যাওয়ার গল্প উঠে এসেছে। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান, আজমেরী হক বাঁধন ও ফজলুর রহমান বাবু।
উচ্চমানের কারিগরি নির্মাণে তৈরি ‘মাস্টার’-এর পোস্ট-প্রডাকশন সম্পন্ন হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বমানের স্টুডিওতে, যেখানে কাজ করেছেন অস্কার মনোনীত সম্পাদক। বড় পর্দার দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ছবিটির নির্মাণশৈলীতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।
এছাড়া, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’ জায়গা করে নিয়েছে রটারড্যাম উৎসবের ‘ব্রাইট ফিউচার’ বিভাগে, যা নতুন ও উদীয়মান নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম।
নির্মাতা ও প্রযোজক রেদওয়ান রনি এই অর্জনকে বাংলাদেশি সিনেমার ইতিহাসে একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, তিনটি ভিন্ন বিভাগে তিনটি চলচ্চিত্রের এই নির্বাচন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি সিনেমার ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী উপস্থিতির প্রমাণ।
উল্লেখ্য, ‘বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশন’ বিভাগে ‘মাস্টার’ বিজয়ী হলে ৩০ হাজার ইউরো পুরস্কারের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডসের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির বিশেষ সুযোগ পাবে। এই সাফল্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















