দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগোনোর চেষ্টা থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থানগত দূরত্ব এখনো কাটেনি
ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভিসা সেন্টার প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন রয়েছে বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের শুরু থেকেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবতা অনুযায়ী একটি টানাপড়েন বিদ্যমান।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এগোনোর জন্য দুই পক্ষেরই চেষ্টা প্রয়োজন হলেও সেই অগ্রগতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। কিছু বিষয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব আপত্তি ও অবস্থান রয়েছে, যার ফলে সম্পর্কের এই টানাপড়েন রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে মিশন ছোট করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তৌহিদ হোসেন জানান, এই মুহূর্তে সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন সরকার মনে করছে না।
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিয়মিতভাবে ভারতের মূলধারার গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী পরিবেশের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। এ বিষয়ে ভারতকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।
তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনাকে থামানো বা তাকে ফেরত চাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। তবে ভারত যদি এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের সুযোগ সীমিত— সেটিও মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার বক্তব্যকে সরকারের অবস্থান নয় বলে স্পষ্ট করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না এবং কোনো সরকারই এমন সিদ্ধান্ত নেবে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা উপেক্ষার অভিযোগ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারত প্রায়শই মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অবদানকে খাটো করে উপস্থাপন করে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা ছাড়া ওই বিজয় অর্জন সম্ভব হতো না।
নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার বিষয়েও মন্তব্য করেন তিনি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়, এটি একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচির কারণে হয়েছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার বিষয়ে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
















